কুঁচকি, নাভি কিংবা আগের অপারেশনের জায়গায় অস্বাভাবিক ফোলা দেখা দিলে অনেকেই প্রথমে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না। ফোলাটি শুয়ে থাকলে ছোট হয়ে যেতে পারে, আবার কাশি দেওয়া, ভারী কিছু তোলা বা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার সময় বড় হয়ে উঠতে পারে। এ ধরনের সমস্যা হার্নিয়ার লক্ষণ হতে পারে।
হার্নিয়া ধরা পড়লে রোগীর সাধারণ প্রশ্ন হলো—“এখনই কি অপারেশন করতে হবে?” আবার অনেকে ব্যথা না থাকায় বছরের পর বছর অপেক্ষা করেন। বাস্তবে হার্নিয়ার চিকিৎসা নির্ভর করে এর ধরন, অবস্থান, আকার, উপসর্গ এবং ভেতরের কোনো অঙ্গ আটকে যাওয়ার ঝুঁকির ওপর।
এই লেখায় মূলত ইনগুইনাল, ফেমোরাল, আমবিলিক্যাল ও ইনসিশনাল হার্নিয়ার লক্ষণ, পরীক্ষা, চিকিৎসা, অপারেশনের পদ্ধতি এবং জরুরি অবস্থার লক্ষণ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
হার্নিয়া কী?
পেটের ভেতরের অঙ্গ ও টিস্যুকে শক্ত পেশি এবং আবরণ সঠিক অবস্থানে ধরে রাখে। এই পেশি বা আবরণের কোনো অংশ দুর্বল হয়ে গেলে ভেতরের চর্বি বা অন্ত্রের অংশ সেই দুর্বল জায়গা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে। এর ফলে যে ফোলা বা গুটি তৈরি হয়, তাকে হার্নিয়া বলা হয়।
শুরুতে ফোলাটি কেবল দাঁড়ালে, কাশি দিলে বা চাপ প্রয়োগের সময় দেখা যেতে পারে। শুয়ে পড়লে কিংবা হালকা চাপ দিলে তা আবার ভেতরে চলে যেতে পারে। তবে সময়ের সঙ্গে হার্নিয়া বড় হতে পারে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অন্ত্র বা অন্য টিস্যু এতে আটকে যেতে পারে।
হার্নিয়ার সাধারণ ধরন
ইনগুইনাল হার্নিয়া
কুঁচকির কাছে পেটের দেয়ালের দুর্বল অংশ দিয়ে হার্নিয়া বের হলে তাকে ইনগুইনাল হার্নিয়া বলা হয়। এটি পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। ফোলাটি কখনো অণ্ডথলির দিকেও নেমে যেতে পারে।
ফেমোরাল হার্নিয়া
কুঁচকির কিছুটা নিচে বা উরুর ওপরের অংশে এই হার্নিয়া দেখা যায়। তুলনামূলক কম হলেও এতে ভেতরের টিস্যু আটকে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি হতে পারে। তাই ফেমোরাল হার্নিয়া শনাক্ত হলে দ্রুত সার্জনের মূল্যায়ন প্রয়োজন।
আমবিলিক্যাল হার্নিয়া
নাভির কাছে তৈরি হওয়া হার্নিয়াকে আমবিলিক্যাল হার্নিয়া বলা হয়। শিশুদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদেরও এটি হতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে স্থূলতা, গর্ভাবস্থা বা পেটের ভেতরের চাপ বৃদ্ধি এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
ইনসিশনাল হার্নিয়া
আগের পেটের অপারেশনের কাটা বা ক্ষতস্থানের পেশি দুর্বল হয়ে সেখানে হার্নিয়া তৈরি হলে তাকে ইনসিশনাল হার্নিয়া বলা হয়। অপারেশনের অনেক মাস বা বছর পরও এটি দেখা দিতে পারে।
হার্নিয়ার সাধারণ লক্ষণ
হার্নিয়ার লক্ষণ এর ধরন, আকার এবং অবস্থান অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। সাধারণ লক্ষণগুলো হলো:
- কুঁচকি, নাভি বা পেটের কোনো অংশে ফোলা বা গুটি
- দাঁড়ালে, কাশি দিলে বা চাপ প্রয়োগ করলে ফোলা বড় হওয়া
- শুয়ে পড়লে ফোলা ছোট হয়ে যাওয়া বা ভেতরে চলে যাওয়া
- আক্রান্ত স্থানে টান, ভারী অনুভূতি বা অস্বস্তি
- হাঁটা, ব্যায়াম বা ভারী জিনিস তোলার সময় ব্যথা
- দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলে অস্বস্তি বেড়ে যাওয়া
- কাশি বা হাঁচির সময় ফোলা অংশে চাপ অনুভব করা
- পুরুষদের ক্ষেত্রে অণ্ডথলিতে ফোলা বা ব্যথা
- আগের অপারেশনের ক্ষতস্থানে নতুন ফোলা তৈরি হওয়া
শুধু বাইরে থেকে ফোলা দেখেই হার্নিয়ার ধরন নিশ্চিত করা যায় না। লিম্ফ নোড, হাইড্রোসিল, সিস্ট বা অন্য সমস্যাতেও কাছাকাছি ধরনের ফোলা দেখা দিতে পারে। তাই সঠিক কারণ জানার জন্য চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন।
হার্নিয়া কেন হয়?
হার্নিয়া সাধারণত পেটের দেয়ালের দুর্বলতা এবং ভেতরের চাপ—এই দুইয়ের সমন্বয়ে তৈরি হয়। কারও জন্মগতভাবে পেশির কোনো অংশ দুর্বল থাকতে পারে। আবার বয়স, অপারেশন বা দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যার কারণে পরবর্তী সময়ে দুর্বলতা তৈরি হতে পারে।
হার্নিয়ার ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো হলো:
- বয়সের সঙ্গে পেটের পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া
- পরিবারের অন্য সদস্যের হার্নিয়ার ইতিহাস
- দীর্ঘস্থায়ী কাশি
- দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য এবং মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া
- প্রস্রাব করতে নিয়মিত চাপ দিতে হওয়া
- অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা
- গর্ভাবস্থা
- আগের পেটের অপারেশন
- ক্ষতস্থানে সংক্রমণ বা ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া
- নিয়মিত ভারী জিনিস ওঠানো
- ধূমপান ও টিস্যুর দুর্বলতা
- পেটে পানি জমাসহ কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক অবস্থা
শুধু ভারী জিনিস তোলাই হার্নিয়ার একমাত্র কারণ নয়। আগে থেকে দুর্বল জায়গায় অতিরিক্ত চাপ পড়লে হার্নিয়া দৃশ্যমান হয়ে উঠতে পারে।
হার্নিয়া কীভাবে শনাক্ত করা হয়?
রোগের ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষা
বেশিরভাগ হার্নিয়া রোগীর উপসর্গ এবং শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব। চিকিৎসক দাঁড়ানো ও শোয়া অবস্থায় ফোলা পরীক্ষা করতে পারেন। কাশি দিতে বা পেটে হালকা চাপ সৃষ্টি করতে বললে হার্নিয়াটি আরও স্পষ্ট হতে পারে।
চিকিৎসক সাধারণত জানতে চান:
- ফোলাটি প্রথম কখন দেখা গেছে
- ফোলা ছোট বা বড় হয় কি না
- ব্যথা বা টান অনুভূত হয় কি না
- শুয়ে পড়লে ফোলাটি ভেতরে চলে যায় কি না
- আগে পেটে কোনো অপারেশন হয়েছিল কি না
- কোষ্ঠকাঠিন্য, দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা প্রস্রাবের সমস্যা আছে কি না
আল্ট্রাসনোগ্রাম
শারীরিক পরীক্ষায় হার্নিয়া নিশ্চিত না হলে বা ফোলার কারণ নিয়ে সন্দেহ থাকলে আল্ট্রাসনোগ্রাম প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে কুঁচকির ছোট হার্নিয়া বা অন্য ধরনের গুটির সঙ্গে পার্থক্য নির্ধারণে এটি সহায়ক হতে পারে।
CT Scan বা অন্যান্য পরীক্ষা
বড়, জটিল, পুনরায় হওয়া বা ইনসিশনাল হার্নিয়ার ক্ষেত্রে CT scan প্রয়োজন হতে পারে। এতে হার্নিয়ার আকার, পেটের দেয়ালের দুর্বলতা এবং এর ভেতরে কোন টিস্যু রয়েছে—এসব মূল্যায়ন করা যায়। তবে সব রোগীর CT scan প্রয়োজন হয় না।
হার্নিয়ার চিকিৎসা কী?
হার্নিয়ার চিকিৎসা নির্ধারণের সময় এর ধরন, উপসর্গ, আকার, রোগীর বয়স, অন্যান্য রোগ এবং দৈনন্দিন কাজে প্রভাব বিবেচনা করা হয়।
হার্নিয়া কি নিজে থেকে ভালো হয়?
প্রাপ্তবয়স্কদের পেটের দেয়ালের হার্নিয়া সাধারণত ওষুধ, ব্যায়াম বা খাবার পরিবর্তনের মাধ্যমে বন্ধ হয়ে যায় না। ব্যথার ওষুধ সাময়িক অস্বস্তি কমাতে পারে, কিন্তু পেশির দুর্বল জায়গাটি মেরামত করতে পারে না।
হার্নিয়া বেল্ট বা ট্রাস ফোলার ওপর সাময়িক চাপ তৈরি করতে পারে, কিন্তু এটি স্থায়ী চিকিৎসা নয়। ভুলভাবে ব্যবহার করলে অস্বস্তি বা অন্য সমস্যা হতে পারে। তাই সার্জনের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের বেল্ট ব্যবহার করা উচিত নয়।
পর্যবেক্ষণে রাখা যেতে পারে কখন?
উপসর্গহীন বা খুব সামান্য উপসর্গযুক্ত কিছু পুরুষ রোগীর ইনগুইনাল হার্নিয়া নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পর্যবেক্ষণে রাখা যেতে পারে। একে Watchful Waiting বলা হয়।
তবে পর্যবেক্ষণ মানে সমস্যাটি উপেক্ষা করা নয়। রোগীকে হার্নিয়ার পরিবর্তন এবং জরুরি লক্ষণ সম্পর্কে জানতে হবে। নিয়মিত ব্যথা, আকার বৃদ্ধি বা দৈনন্দিন কাজে সমস্যা শুরু হলে পুনরায় সার্জনের মূল্যায়ন প্রয়োজন।
ফেমোরাল হার্নিয়া, আটকে যাওয়া হার্নিয়া এবং রক্ত চলাচল ব্যাহত হওয়ার সন্দেহ থাকলে অপেক্ষা করা নিরাপদ নয়।
কখন হার্নিয়া অপারেশন প্রয়োজন?
নিচের পরিস্থিতিতে হার্নিয়া অপারেশন বিবেচনা করা হতে পারে:
- নিয়মিত ব্যথা বা অস্বস্তি হলে
- হার্নিয়ার আকার ধীরে ধীরে বাড়লে
- দৈনন্দিন কাজ, হাঁটা বা ব্যায়ামে সমস্যা হলে
- ফোলাটি সহজে ভেতরে না গেলে
- ইনগুইনাল হার্নিয়া অণ্ডথলির দিকে নেমে গেলে
- ফেমোরাল হার্নিয়া শনাক্ত হলে
- আগের অপারেশনের জায়গায় ইনসিশনাল হার্নিয়া হলে
- হার্নিয়ায় অন্ত্র বা অন্য টিস্যু আটকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে
- অন্ত্রে বাধা বা রক্ত সরবরাহ বন্ধ হওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে
কখন অপারেশন করা উচিত এবং কোন পদ্ধতি উপযুক্ত হবে—এ সিদ্ধান্ত রোগীভেদে আলাদা। রোগীর উপসর্গ, হার্নিয়ার বৈশিষ্ট্য, শারীরিক অবস্থা এবং সার্জনের মূল্যায়নের ভিত্তিতে চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়।
ওপেন ও ল্যাপারোস্কোপিক হার্নিয়া অপারেশন
হার্নিয়া অপারেশনের প্রধান দুটি পদ্ধতি হলো ওপেন সার্জারি এবং ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি।
ওপেন হার্নিয়া সার্জারি
এ পদ্ধতিতে হার্নিয়ার কাছাকাছি একটি কাটা দিয়ে বেরিয়ে আসা টিস্যু সঠিক অবস্থানে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর দুর্বল জায়গাটি সেলাই বা মেশ ব্যবহার করে মেরামত করা হয়।
কিছু রোগীর ক্ষেত্রে স্থানীয়, স্পাইনাল বা জেনারেল অ্যানেসথেশিয়ায় ওপেন অপারেশন করা যেতে পারে। বড় হার্নিয়া, জরুরি অবস্থা বা কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক পরিস্থিতিতে ওপেন পদ্ধতি উপযুক্ত হতে পারে।
ল্যাপারোস্কোপিক হার্নিয়া সার্জারি
ল্যাপারোস্কোপিক বা কী-হোল পদ্ধতিতে পেটে কয়েকটি ছোট ছিদ্র দিয়ে ক্যামেরা ও বিশেষ যন্ত্র প্রবেশ করানো হয়। ভেতর থেকে হার্নিয়াটি মেরামত করে প্রয়োজন অনুযায়ী মেশ স্থাপন করা হয়।
দুই পাশে হার্নিয়া, আগের অপারেশনের পর পুনরায় হওয়া হার্নিয়া বা নির্বাচিত কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতি সুবিধাজনক হতে পারে। তবে সব রোগীর জন্য এটি উপযুক্ত নয়।
হার্নিয়ার ধরন ও আকার, আগের অপারেশন, অ্যানেসথেশিয়ার ঝুঁকি এবং সার্জনের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় অপারেশনের পদ্ধতি নির্বাচন করা হয়।
হার্নিয়া অপারেশনে মেশ কেন ব্যবহার করা হয়?
মেশ হলো চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের জালসদৃশ উপাদান। এটি পেটের দেয়ালের দুর্বল অংশকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে এবং অনেক ধরনের হার্নিয়ায় পুনরায় হওয়ার ঝুঁকি কমাতে ব্যবহৃত হয়।
তবে প্রতিটি হার্নিয়ায় একই ধরনের মেশ বা একই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় না। হার্নিয়ার আকার, অবস্থান, সংক্রমণের উপস্থিতি এবং রোগীর সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনা করে সার্জন সিদ্ধান্ত নেন।
অপারেশনের আগে মেশের প্রয়োজন, সম্ভাব্য উপকার এবং ঝুঁকি সম্পর্কে সার্জনের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।
অপারেশনের আগে কী প্রস্তুতি প্রয়োজন?
অপারেশনের আগে রোগীর অন্যান্য অসুস্থতা ও ওষুধ সম্পর্কে বিস্তারিত মূল্যায়ন করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা, ECG, বুকের পরীক্ষা বা অ্যানেসথেশিয়া মূল্যায়ন করা হতে পারে।
চিকিৎসককে জানাতে হবে:
- ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ আছে কি না
- হৃদ্রোগ বা ফুসফুসের সমস্যা আছে কি না
- রক্ত পাতলা করার ওষুধ গ্রহণ করা হয় কি না
- কোনো ওষুধে অ্যালার্জি আছে কি না
- আগে কোনো অপারেশন বা অ্যানেসথেশিয়ার সমস্যা হয়েছিল কি না
- ধূমপানের অভ্যাস আছে কি না
কোনো ওষুধ নিজে থেকে বন্ধ করবেন না। সার্জন বা অ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ওষুধ এবং অপারেশনের আগে না খেয়ে থাকার নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
অপারেশনের পর স্বাভাবিক জীবনে ফেরা
অপারেশনের পর সুস্থ হতে কত সময় লাগবে, তা হার্নিয়ার ধরন, অপারেশনের পদ্ধতি, রোগীর বয়স, অন্যান্য অসুস্থতা এবং কাজের ধরনের ওপর নির্ভর করে।
সাধারণভাবে রোগীকে:
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হাঁটাচলা শুরু করতে
- ক্ষত পরিষ্কার ও শুকনা রাখতে
- নির্ধারিত ওষুধ নিয়মিত গ্রহণ করতে
- কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে পর্যাপ্ত পানি ও আঁশযুক্ত খাবার খেতে
- ভারী কাজ ও ওজন তোলার বিষয়ে সার্জনের নির্দেশনা মানতে
- নির্ধারিত সময়ে ফলোআপ করতে বলা হতে পারে
কাজে ফেরা বা ব্যায়াম শুরু করার সময় সবার জন্য এক নয়। বিশেষ করে শারীরিক পরিশ্রমের কাজ হলে সার্জনের অনুমতি ছাড়া দ্রুত ভারী কাজে ফেরা উচিত নয়।
হার্নিয়া অপারেশনের সম্ভাব্য ঝুঁকি
অধিকাংশ রোগী অপারেশনের পর স্বাভাবিকভাবে সুস্থ হন। তবে অন্য অস্ত্রোপচারের মতো হার্নিয়া অপারেশনেও কিছু ঝুঁকি থাকতে পারে:
- ক্ষতস্থানে সংক্রমণ
- রক্ত বা তরল জমে ফোলা
- সাময়িক ব্যথা বা অবশ অনুভূতি
- দীর্ঘস্থায়ী কুঁচকির ব্যথা
- প্রস্রাব করতে সাময়িক সমস্যা
- আশপাশের রক্তনালি, স্নায়ু বা অঙ্গে আঘাত
- মেশসংক্রান্ত জটিলতা
- ভবিষ্যতে আবার হার্নিয়া হওয়া
রোগীর ব্যক্তিগত ঝুঁকি অপারেশনের আগে সার্জন ও অ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন।
হার্নিয়ার সমস্যা বাড়ার ঝুঁকি কীভাবে কমাবেন?
সব ধরনের হার্নিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে পেটের ভেতরে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এমন কিছু বিষয় নিয়ন্ত্রণ করলে সমস্যা বাড়ার ঝুঁকি কমতে পারে।
- স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন
- কোষ্ঠকাঠিন্য হলে চিকিৎসা নিন
- পর্যাপ্ত পানি ও আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করুন
- দীর্ঘস্থায়ী কাশি উপেক্ষা করবেন না
- ধূমপান পরিহারের চেষ্টা করুন
- ভারী জিনিস তোলার সময় সঠিক কৌশল অনুসরণ করুন
- অপারেশনের পর সার্জনের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজে ফিরুন
এসব ব্যবস্থা তৈরি হয়ে যাওয়া হার্নিয়া সারিয়ে তোলে না। তবে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ এবং অপারেশনের পর পুনরায় হওয়ার কিছু ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
কখন জরুরি চিকিৎসা নেবেন?
হার্নিয়ার ভেতরে অন্ত্র বা অন্য টিস্যু আটকে গেলে রক্ত সরবরাহ কমে যেতে পারে। এটি জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন তৈরি করতে পারে।
নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান:
- হার্নিয়ার জায়গায় হঠাৎ তীব্র বা বাড়তে থাকা ব্যথা
- আগে ভেতরে চলে যেত, কিন্তু এখন ফোলাটি আর ভেতরে না যাওয়া
- ফোলা শক্ত, অত্যন্ত স্পর্শকাতর বা দ্রুত বড় হয়ে যাওয়া
- ফোলার ওপরের ত্বক লাল, বেগুনি বা কালচে হওয়া
- বারবার বমি বা খাবার রাখতে না পারা
- পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া
- পায়খানা বা গ্যাস বন্ধ হয়ে যাওয়া
- জ্বর, কাঁপুনি বা দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়া
এ অবস্থায় নিজে থেকে জোর করে হার্নিয়া ভেতরে ঢোকানোর চেষ্টা করবেন না। দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
হার্নিয়ার জন্য কোন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
কুঁচকি, নাভি বা আগের অপারেশনের স্থানে নতুন ফোলা দেখা দিলে General অথবা Laparoscopic Surgery–তে কাজ করেন এমন সার্জনের পরামর্শ নেওয়া যায়। তিনি শারীরিক পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় রিপোর্ট দেখে হার্নিয়ার ধরন এবং চিকিৎসার পরিকল্পনা নির্ধারণ করবেন।
ঢাকায় হার্নিয়ার চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার সম্পর্কে পরামর্শ নিতে ডা. মো. আমিনুল ইসলাম (জুয়েল)-এর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া যেতে পারে।
ডা. মো. আমিনুল ইসলাম (জুয়েল)
সহকারী অধ্যাপক, হেপাটোবিলিয়ারি সার্জারি বিভাগ
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব গ্যাস্ট্রোলিভার ডিজিজেস অ্যান্ড হসপিটাল, ঢাকা
হার্নিয়া সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন
১. হার্নিয়া হলেই কি দ্রুত অপারেশন করতে হয়?
সব হার্নিয়ার ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক অপারেশন প্রয়োজন হয় না। উপসর্গহীন বা সামান্য উপসর্গযুক্ত কিছু ইনগুইনাল হার্নিয়া সার্জনের পর্যবেক্ষণে রাখা যেতে পারে। তবে ব্যথা, আকার বৃদ্ধি, ফেমোরাল হার্নিয়া বা টিস্যু আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকলে অপারেশন প্রয়োজন হতে পারে।
২. ওষুধ বা ব্যায়ামে কি হার্নিয়া ভালো হয়?
ওষুধ ব্যথা বা অস্বস্তি সাময়িকভাবে কমাতে পারে, কিন্তু পেটের দেয়ালের দুর্বল অংশ বন্ধ করতে পারে না। ব্যায়ামও তৈরি হয়ে যাওয়া হার্নিয়া সারিয়ে তোলে না। বরং ভুল ব্যায়ামে অস্বস্তি বাড়তে পারে।
৩. ল্যাপারোস্কোপিক অপারেশন কি সবার জন্য উপযুক্ত?
না। ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতি অনেক রোগীর জন্য উপযুক্ত হলেও হার্নিয়ার ধরন, আকার, আগের অপারেশন এবং রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী ওপেন সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে। সার্জন ব্যক্তিগত মূল্যায়নের পর পদ্ধতি নির্ধারণ করেন।
৪. অপারেশনের পর আবার হার্নিয়া হতে পারে?
হ্যাঁ, অল্পসংখ্যক রোগীর হার্নিয়া পুনরায় হতে পারে। ক্ষতস্থানে সংক্রমণ, ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং দ্রুত ভারী কাজে ফিরে যাওয়া ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
৫. কোন লক্ষণে হার্নিয়া জরুরি অবস্থা হয়ে যায়?
ফোলা আর ভেতরে না যাওয়া, হঠাৎ তীব্র ব্যথা, বমি, পেট ফুলে যাওয়া, পায়খানা বা গ্যাস বন্ধ হওয়া এবং ফোলার রং পরিবর্তন জরুরি লক্ষণ। এমন হলে দ্রুত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যেতে হবে।
অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য যোগাযোগ
হার্নিয়ার ফোলা ছোট বা ব্যথাহীন হলেও সঠিক ধরন জানার জন্য সার্জনের মূল্যায়ন নেওয়া ভালো। সময়মতো পরীক্ষা করলে পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন, নাকি পরিকল্পিত অপারেশন প্রয়োজন—তা নিরাপদভাবে নির্ধারণ করা যায়।
ডা. মো. আমিনুল ইসলাম (জুয়েল)-এর পরামর্শ নিতে ওয়েবসাইটের Book Appointment অপশন ব্যবহার করুন অথবা যোগাযোগ করুন:
ফোন: +880-1711-662945
ওয়েবসাইট: https://draminul.com/\
চেম্বারের তথ্য: https://draminul.com/chamber-location/
এই লেখাটি রোগী ও পরিবারের সদস্যদের সাধারণ তথ্য দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি। এটি সরাসরি চিকিৎসকের পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরিকল্পনার বিকল্প নয়।
